অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৬

বরফ

এ আঠা এমনই, বাতাসে এলে শুকিয়ে কংক্রিট। এতটাই যে সেবার ছেলের ভাঙা খেলনা জুড়তে গিয়ে বে-খেয়ালে তর্জনী-মধ্যমা জুড়ে গিয়েছিল ভয়ানকভাবে। বছর পাঁচেক আগে। বুক ঠেলে লম্বা নিশ্বাস বেরিয়ে এল সমিধের।
পাঁচ বছর আগে, আজকের দিনেই স্বর্ণালীর সঙ্গে সমিধের সম্পর্কটা শেষ হয়ে যায়। আদালতের সেই রায় এখনো যেন কানের ভিতর গরম সিসা ঢেলে দেয় কেউ।
বিয়ের এক বছর যেতে না-যেতেই সমিধ বুঝতে পারল স্বর্ণালী কেমন যেন যৌনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। শরীরের জন্য কাছে গেলে স্বর্ণালী খুবই বিরক্ত হয়। নামি দামি ডাক্তার দেখিয়েও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। সন্তান গর্ভে আসার পরপরই এই অনীহা। ভেবেছিলাম সন্তান জন্মানোর পরই সব ঠিক হয়ে যাবে। চিকিৎসকরা বলে দিলেন, এটা ফ্রিজিটি। পারমানেন্ট ফ্রিজিটি। বারো বছর অপেক্ষার পর অবশেষে বিচ্ছেদের মামলা উঠল আদালতে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মৃত্যুদণ্ড : শাসনের ছলনায় রাষ্ট্র কর্তৃক নরমেধ যজ্ঞ (প্রথম পর্ব)



মৃত্যুদণ্ড বা প্রাণদণ্ড (Capital Punishment) হল আইনি পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তিকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা। যেসব অপরাধের শাস্তি হিসাবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে, সেগুলিকে বলা হয় মৃত্যুদণ্ডার্হ অপরাধ। অতীতে প্রায় সকল দেশেই মৃত্যুদণ্ড প্রথা প্রচলিত ছিল। বর্তমানে মাত্র ৫৮টি দেশ প্রত্যক্ষভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে। ৯৫টি দেশ এই প্রথা অবলুপ্ত করে দিচ্ছে। অবশিষ্ট দেশগুলি দশ বছর এই দণ্ড ব্যবহার করছে না বা যুদ্ধ ইত্যাদি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করছে না। অনেক দেশেই মৃত্যুদণ্ড একটি বিতর্কের বিষয়। তবে একই রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংস্কৃতিক অঞ্চলে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মতান্তর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সনদের ২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলির উপর মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আজ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানাল অধিকাংশ দেশকেই "অ্যাবোলিশনিস্ট" অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষপাতী মনে করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানাল মৃত্যুদণ্ড বিলোপের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রসংঘে একটি অ-বাধ্যতামূলক প্রস্তাবনায় ভোটের অনুমোদন দিয়েছে। যদিও বিশ্বের ৬০% মানুষ সেই সব দেশে বাস করেন, যেখানে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট চারটি দেশও (গণচিন, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া)। চারটি দেশই ২০০৮ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় "রেজোলিউশন অন আ মোরোটোরিয়াম অন দি ইউজ অফ দ্য ডেথ পেনাল্টি"-এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। আসলে রাষ্ট্র তখনই সেই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেবে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের পক্ষে ঝুঁকিকর হতে পারে  রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেই মৃত্যুদণ্ডই কাঙ্ক্ষিত, যদি কোনো ব্যক্তি বিদ্রোহী হয়এই বিদ্রোহীদেরই রাষ্ট্রদ্রোহী হিসাবেই প্রতিপন্ন করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডপূর্বক হত্যা করা হয়

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

নো থ্যাংকস

এখন আর সহবাস করি না।  আমার ২৮ বছরের সহবাস জীবনকে পরিত্যাগ করে ফেলেছি গত পাঁচ বছর হয়ে গেল এখন অহংকার হয়, আমিও পারি আমি অনেককিছুই পারি না, কিন্তু জীবনসঙ্গী ছাড়তে পেরেছি  -- যা অনেকেই পারে না !

চেষ্টা করিনি শুধুমাত্র ইচ্ছা শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম নিউ ব্যারাকপুর থেকে মধ্যমগ্রাম এই মিনিট ট্রেন জার্নিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম – “আর নয় এর সঙ্গে সহবাস না-করলে খারাপ কিছু হয় কি না জানি না, ভালো  যে কিছু  হয় না সেটা জানি তৎক্ষণাৎ পকেটে মজুত থাকা সহবাসের অনুসঙ্গ নোয়াই খালে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম বুকটা ছ্যাঁক করে উঠেছিল, কিছু সময়ের জন্য পরদিন গৌণ-অগৌণ সবাইকে বলে বেরালাম আমি সুদীর্ঘ জীবনের সহবাস-সঙ্গীকে ছেড়ে দিয়েছি আমার সব সোসাইটিতে প্রচার করে দিলাম ব্যস, শুরুতেই যুদ্ধজয় হয়ে গেল কোনো অঙ্গীকার ছাড়াই, কোনো প্রতিজ্ঞা ছাড়াই আমার সহবাসহীন জীবন শুরু হয়ে গেলপারব ? “পল্লব, তুমি পারবেই” – একথা কেউ বলেনি। খুব ভয় করছিল। চুমু ছেড়ে ভাজা মৌরি খেতে শুরু করলাম। আমার শ্বে.........রী এখন আর আমার নয়

সহবাসহীন জীবন কাটাতে কোনো বেগ পাইনি তথাগত জানত না দু-চারটে কথা বলার পর সিগারেট বাড়িয়ে দেয় আমার দিকে বলে – “টান, আমেরিকার এক নম্বর ব্র্যান্ড -- নো থ্যাংকস

আকাশকুসুম নয়

একদা এক মুখচোরা বালক আজ বলে, সবাই শোনে কেউ মুখে রা কাটতে পারে না পল্লব শিক্ষক হতে চায়নি কোনোদিন শ্রোতারা কেউ ছাত্র নয়, ছাত্রীও নয় পল্লব ভারী ভারী কথা বলে, সকলে বিমুগ্ধ শ্রোতা
একদা ক্লাসের পড়ার বই ভাঙারি-কাকুর  কাছে বিক্রি করে যে ছেলেটি চানাচুর খেত, তার পড়ার ঘর এখন হাজার হাজার মূল্যবান বইয়ের অমূল্য সংগ্রহবুকসেল্ফ বইয়ে ঠাসা কেউ বইয়ের অনিষ্ট করলে দক্ষযজ্ঞ বেঁধে যায়
একদা বোনের বান্ধবীরা বাড়িতে এলে পল্লব ঘর থেকে বের হত না আড়াল নিত এখন পল্লবের ফ্রেন্ডলিস্টে শুধুই নারীদের মিছিল এবং যথেচ্ছ নারীসঙ্গ
একদা যে যুবকটি একটা ব্যক্তিগত চিঠি লিখতে পারত না, চার লাইন সুগঠিত বাক্য লিখতে পারত নাসেই পল্লব সেনগুপ্ত প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনিপল্লব মানুষ হতে পেরেছে !

ব্রাহ্মণ

---চক্কোত্তি, চক্কোত্তিদা-----
আমার কণ্ঠ শুনে চক্কোত্তি স্ট্যাচু আমার কণ্ঠস্বরকে একটু বেশিই ভয় পায় কাছে এগিয়ে গেলামজিজ্ঞ্যেস করলাম --- কোথায় যাচ্ছ সক্কাল সক্কাল ?
 --- যজমানের বাড়ি বিয়ের কাজ আছে দিনক্ষণ দেখতে হবে
--- তোমার ভয় করে না ? এই তো নয় যে তোমার যজমানি না-করলে পেটে জুটবে না প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করে যে বেতন পাও তাতে হয় না ?
--- কী-কী-কী-কীসের ভয় !
--- এই যে তুমি ব্রাহ্মণ নও তুমি ব্রাহ্মণ নও সেটা আমার চেয়ে কে বেশি জানে বলো বাংলাদেশের রাহা এপারে এসে চক্কোত্তির ভেক নিয়ে পুরোহিতগিরিতে নেমে পড়লে !
--- কে বললে আমি ব্রাহ্মণ নই ? এই দ্যাখো আমার পইতা ---
--- পইতা দেখাচ্ছ চক্কোত্তিদা ! উপনিষদ্যতে প্রাপ্যতে ব্রহ্মবিদ্যা অনয়া ইতি --- কী বললাম বলোতো ?
--- সংস্কৃত আমি জানি না ভাই
--- সেকি, ব্রাহ্মণমানুষ. অথচ সংস্কৃত জানো না ? অথচ জানো না উপনিষদ শব্দের অর্থ ব্রহ্মজ্ঞান বা ব্রহ্মবিদ্যা ? তোমার তো ব্রহ্মজ্ঞানই হয়নি ব্রাহ্মণ বলে দাবি করছ কীভাবে ?
--- শুধু আমাকে জেরা করে তোমার সমাজের কী লাভ হবে আমি তো একা নই তোমাদের দেশের কোন্ ব্রাহ্মণের ব্রহ্মজ্ঞান হয়েছে ?
মানুষের জন্য যা কিছু ক্ষতিকর, সেগুলির আদিতেই আছে বিশ্বাস বিশ্বাস সত্যের বিরোধী এইভাবে প্রতারণা আর কতদিন চলবে চক্কোত্তিদা ? বিশ্বাসের কাজ অসত্যকে অস্তিত্বশীল করা তুমি তো বাংলাদেশে ছিলে হুমায়ুন আজাদতে চিনতে ? তিনি বলেছেন --- বিশ্বাস থেকে কখনও জ্ঞানের বিকাশ ঘটে না; জ্ঞানের বিকাশ ঘটে অবিশ্বাস থেকে, প্রথাগত সিদ্ধান্ত দ্বিধাহীনভাবে না মেনে তা পরীক্ষা করার উৎসাহ থেকে
--- আজাদ সত্য, আমি মিথ্যা চক্কোত্তিদা মাথা নীচু করে আউড়ে গেলেন
চক্কোত্তিদা আর কোনোদিন যজমানি করেনি